সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

অবলা প্রাণীর ওপর নির্মমতা কোনোভাবেই সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না

  • আপলোড সময় : ২৮-০১-২০২৬ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০১-২০২৬ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
অবলা প্রাণীর ওপর নির্মমতা কোনোভাবেই সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গুচ্ছগ্রামে আলুক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে একটি ঘোড়াকে ফাঁস লাগিয়ে হত্যার ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। যে সমাজ নিজেকে সভ্য বলে দাবি করে, সেই সমাজে অবলা প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জমির ক্ষতি হয়েছে - এই অভিযোগ সত্য হলেও তার প্রতিকার কখনোই প্রাণহত্যা হতে পারে না। ঘোড়াটি কোনো অপরাধী নয়; সে একটি নিরীহ প্রাণী, যার মাধ্যমে তার মালিক আইয়ূব আলী জীবিকা নির্বাহ করতেন। মানুষের মালামাল বহনের কাজে ব্যবহৃত এই ঘোড়াটি শুধু একটি প্রাণই নয়, ছিল একটি পরিবারের আয়ের উৎস। সেই ঘোড়াকে হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁস দেওয়া নিছক অপরাধ নয়, এটি এক ধরনের নির্মমতা, যা মানুষের নৈতিকতার গভীর সংকট নির্দেশ করে। আইনের চোখে পশু নির্যাতন ও হত্যা দ-নীয় অপরাধ। ‘আলুক্ষেত নষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনি পথ খোলা ছিল- ক্ষতিপূরণ দাবি, স্থানীয়ভাবে মীমাংসা কিংবা প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়া। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন নৃশংস কাজ করা সমাজে ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আজ একটি ঘোড়া, কাল হয়তো মানুষ - এই প্রশ্ন আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু আটক করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যাতে ভবিষ্যতে কেউ পশু বা মানুষের ওপর এমন পাশবিক আচরণ করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব রয়েছে- গ্রামাঞ্চলে পশুস¤পদ সংরক্ষণ, কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। পশু নির্যাতন রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। একটি সভ্য সমাজের মাপকাঠি হলো দুর্বল ও নিরীহের প্রতি তার আচরণ। অবলা প্রাণীর ওপর নির্মমতা কোনোভাবেই সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি- মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হবে, তবেই এমন নিষ্ঠুরতার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স